
ভারত–পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্ক প্রায় এক যুগ ধরে বন্ধ। দুই দল কেবল আইসিসি বা এসিসির টুর্নামেন্টেই মুখোমুখি হয়, তাও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। এবার সেই একই পথে বাংলাদেশ–ভারত ক্রিকেট সম্পর্কও এগোচ্ছে কি না, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে ভারতের নির্ধারিত বাংলাদেশ সফর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভারতকে হয়তো শুধু নিরপেক্ষ ভেন্যুতেই একে অপরের বিপক্ষে খেলতে দেখা যেতে পারে। বিসিসিআই সূত্র জানিয়েছে, ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর বিষয়টি যথাসময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) জানানো হবে।
তবে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে পড়বে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিসিসিআইয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ভারত সরকারের অনুমোদন ছাড়া বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। যদিও বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই হবে।
এর মধ্যেই সিরিজ স্থগিতের দিনই আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। গত ডিসেম্বর আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নেয় কেকেআর। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বোর্ডের নির্দেশে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। কেকেআর এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে ময়মনসিংহে দিপু দাস নামের একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী পোশাকশ্রমিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির একাধিক নেতা মুস্তাফিজকে আইপিএলে নেওয়ার বিরোধিতা করেন। এমনকি কেকেআর ও এর অন্যতম মালিক শাহরুখ খানকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব ক্রমেই বাংলাদেশ–ভারত ক্রিকেট সম্পর্ককে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.