
মুন্সীগঞ্জে কবুতর নিয়ে বিরোধের জেরে চতুর্থ শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে প্রহারের ঘটনা রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কোমলমতি শিশুটির করুণ আকুতিতেও পাষাণ যুবকদের মন গলেনি; বরং নির্যাতন আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন ভিডিও ধারণ করছিলেন—তা টের পেয়ে তাকেও ধাওয়া দেওয়া হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর হারিয়ে যাওয়া কবুতর খুঁজতে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল এলাকার দেওসার নয়াবাড়িতে যায় মোহাম্মদ নিরব (১৩)। সেখানে মোহাম্মদ বাবু (৪০) ও মো. আরফাত (২৫) নামের দুই যুবক শিশুটির ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে মোহাম্মদ বাবু হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে শিশুটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর মো. আরফাত শিশুটির হাত, পা ও পিঠে এলোপাতাড়ি লাথি মারতে থাকে। পরে শিশুটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে আটকে রাখা হয়।
ঘটনার একপর্যায়ে স্থানীয় একজন পাশের সুখবাসপুর গ্রামে গিয়ে শিশুটির পরিবারকে খবর দেন। স্বজনরা তাৎক্ষণিক ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে চরম অমানবিক এই ঘটনার একাংশের ভিডিও রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাইরাল হওয়া ভিডিওর চেয়েও ভয়াবহ ছিল শিশুটির ওপর চালানো নির্যাতন। ভিডিওর পরের অংশে শিশুটিকে বেঁধে আরও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। ভাগ্যক্রমে শিশুটি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার অবস্থা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।
চিকিৎসকরা জানান, শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি শিশুটি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে। আতঙ্কগ্রস্ত এই শিশু শারীরিক সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে গভীর মানসিক ট্রমায় ভুগছে।
শিশুটির বাবা নাজিম শেখ অভিযোগ করেন, ‘এত বড় অপরাধ করার পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে সন্তান ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আমি চরম শঙ্কায় আছি।’
তিনি আরও জানান, ১৫ ডিসেম্বর তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় বিষয়টি জানাতে গেলে সেখানে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে পেরেছেন। জিডি নম্বর ১১১৬। তবে এখনো এ ঘটনায় কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।
এদিকে রবিবার রাতে ‘সভ্যতার আলো’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফিরোজ কবির জানান, ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.